
কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:
একসময় ভোরের নীরবতা ভেঙে মিষ্টি শিসে জানান দিতো দোয়েল। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ, বাড়ির উঠান, ঘরের চাল কিংবা গাছের ডালে ছিল জাতীয় পাখি দোয়েলের সরব উপস্থিতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না চেনা সেই দোয়েলের। ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের জাতীয় পাখিটি।কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা শচীন মন্ডল এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও সকাল হলেই দোয়েলের মিষ্টি শিসে ঘুম ভাঙত গ্রামবাসীর। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় ও গাছপালায় দোয়েলের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত গ্রামের পরিবেশ। অথচ বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল।কয়রা উপজেলা একাধিক প্রবীণ বাসিন্দা আফসোস করে বলেন, “আগে সকালে ঘুম থেকে উঠলেই দোয়েলের মিষ্টি শিস শুনতাম। বাড়ির আশপাশেই দেখা যেতেই । এখন অনেক খুঁজেও দোয়েল দেখা যায় না।”বর্তমান প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়েই জাতীয় পাখি দোয়েলকে বাস্তবে দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। বইয়ের পাতায় কিংবা ছবিতে দেখেই তাদের কাছে পরিচিত হচ্ছে এই পাখিটি। শুধু দোয়েল নয়, দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার আরও অনেক পরিচিত পাখি।পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, নির্বিচারে গাছপালা ও বন-জঙ্গল কেটে ফেলা, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দোয়েলসহ বিভিন্ন দেশীয় পাখির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।সচেতন মহল বলছে, দোয়েলসহ দেশীয় পাখি রক্ষায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ, পর্যাপ্ত বনায়ন এবং কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতীয় পাখি দোয়েল হয়তো শুধু বইয়ের পাতায় থাকা একটি পরিচিত নাম হয়েই থেকে যাবে।
